ফের কৃষকদের মিছিলে কাঁপল মুম্বাই
![]() |
দেশের বঞ্চিত ঋণগ্রস্ত হাজার হাজার কৃষক পূর্ব ঘোষণা মতো জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করলেন বাণিজ্যনগরী মুম্বাইতে। অবশেষে রাজ্য সরকার থেকে লিখিত আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন মহারাষ্ট্রের কৃষকরা।
মহারাষ্ট্রের আদিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে জমির অধিকার, খরাক্লিষ্ট কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, আদিবাসীদের বনাঞ্চলের অধিকার, ফসলের ন্যায্য সহায়ক মূল্য, স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ রূপায়ণ ইত্যাদি দাবি মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে অবস্থান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।
মহারাষ্ট্রের আদিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে জমির অধিকার, খরাক্লিষ্ট কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, আদিবাসীদের বনাঞ্চলের অধিকার, ফসলের ন্যায্য সহায়ক মূল্য, স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ রূপায়ণ ইত্যাদি দাবি মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে অবস্থান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।
সরকারের টানা প্রতারণায় ক্ষুব্ধ কৃষকদের বিরাট পদযাত্রা বৃহস্পতিবার সকালেই মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে এসে পৌঁছায়। গত মঙ্গলবার থানে থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রধানত থানে, ভুসাওয়াল এবং মারাঠাওয়াড়ার কৃষকরাই পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। রাতে মুম্বাইয়ের সিয়ন এলাকায় সোমাইয়া গ্রাউন্ডে তাঁরা রাত্রিবাস করেন। এদিন বেলা বাড়তেই আজাদ ময়দানের দখল নেন কৃষকরা। সরকারের বিরুদ্ধে চলতে থাকে বিক্ষোভ স্লোগান। বিধানসভা অভিযান রুখতে পুলিশি ব্যবস্থা থাকলেও কৃষকদের কোথাও বাধা দেয়নি তাঁরা। দুপুরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে দেখা করেন কৃষকদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
ম্যাগসেসে পুরস্কার বিজেতা ড.রাজেন্দ্র সিং-ও কৃষকদের পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। এদিন তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ খরা ‘মনুষ্যসৃষ্ট’। এর জন্য দায়ী আসলে সরকার। পদযাত্রার আয়োজক লোক সঙ্ঘর্ষ মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রতিভা সিন্ধে বলেন, কৃষকের দাবিগুলি মানবে বলে সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছুই করেনি। ফলে বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথে নেমেছেন কৃষকরা।
মুখ্যমন্ত্রী ও কৃষক প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে কৃষক নেতাদের তরফ থেকে বিক্ষোভ প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, কৃষকদের দাবি লিখিত ভাবে মেনে নিয়েছে সরকার। কৃষক নেতাদের সামনেই সমস্যা সমাধানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে যাবতীয় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে ২.৩ লক্ষ আদিবাসী কৃষকের জমির মালিকানা নেই বলে অভিযোগ কৃষক নেতাদের। জমির অধিকার আদায় করতে লোক সংঘর্ষ মোর্চা নামে সংগঠনের ছাতার তলায় মহারাষ্ট্র বিধানসভা অভিযানের লক্ষ্যে থানে থেকে পদযাত্রা শুরু করেন কৃষকরা। নাম দেওয়া হয় উলগুলান মোর্চা। প্রায় ২ দিন হেঁটে মুম্বাই পৌঁছান সে রাজ্যের ১৯ জেলার ১০,০০০ কৃষক।
প্রসঙ্গত স্মরণীয়, মাত্র সাত মাস আগেই গত মার্চে ৫০ হাজারেরও বেশি কৃষকের এক সুবিশাল পদযাত্রায় চমকে উঠেছিল সারা দেশ। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে মুম্বাই, সুদীর্ঘ ১৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে গরিব কৃষকরা নিজেদের দাবি জানিয়ে গিয়েছিলেন। সারা দেশে সে রকম দৃপ্ত অথচ সুশৃঙ্খল মিছিল আর কোনোদিন হয়নি। সেবারেও কৃষকদের ন্যায্য দাবিগুলি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার।
উল্লেখ্য, গত মার্চে নাসিক শহর থেকে হেঁটে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে দেশের মুম্বাই অভিযানে নামেন ৫০ হাজার কৃষক৷ মুম্বাইয়ের অসংখ্য বাসিন্দা কৃষক পদযাত্রীদের স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে এসে আরেক নজির গড়েছিলেন। কৃষকদের লং মার্চের বার্তা সংবাদমাধ্যমের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে৷ শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। পরে বাধ্য হয়ে কৃষকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ৷ অভিযোগ, নাসিকের কৃষকদের জন্য সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও বঞ্চিতই থেকে যান থানের কৃষকরা৷ কৃষকসমাজের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রতারণার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বারেবারেই উত্তাল আন্দোলন আছড়ে পড়েছে। মধ্য প্রদেশের মন্দসৌরে এমনই এক বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে ৬ জন কৃষককে হত্যাও করেছে সে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

No comments